সোমবার, ২৯ নভেম্বর ২০২১, ০১:৪৬ অপরাহ্ন বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी
শিরোনাম :
পৃষ্ঠপোষকতা পেলে পুনরায় স্কুলমুখী হবে সীমা বাঘায় নৌকার চেয়ারম্যান প্রার্থীগনের মনোনয়নপত্র দাখিল। পুলিশের হাতে ইয়াবা সহ স্বামী স্ত্রী আটক। বেলাব উপজেলা আওয়ামীলীগের উদ্যোগে আলোচনা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত। সী-প্লেনের আদলে হোভারক্রাফট তৈরি করেছেন ক্ষুদে বিজ্ঞানী শাওন।।  বাকেরগঞ্জে বিজয় দিবস উদযাপন উপলক্ষ্যে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত। মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কর্তৃক দুঃস্থদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ কালিয়া নির্বাচন সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা বিষয় মতবিনিময় সভা বাঘায় মোজাহার হোসেন মহিলা ডিগ্রি কলেজে শিক্ষার্থীদের বিদায় উপলক্ষে আলোচনা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত মীর্জাগঞ্জে সাংবাদিকদের উপরে হামলার প্রতিবাদে বাকেরগঞ্জে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত
নোটিশ:
প্রতিনিধি নিয়োগের জন্য যোগাযোগ করুন: ০১৭২৬ ০৫ ০৫ ০৮
আজো সেই ভয়াল ১৫ নভেম্বরের সিডরের দূঃস্বপ্নে আতকে ওঠে মানুষ.।।
/ ১০৩ বার
আপডেট সময় : সোমবার, ১৫ নভেম্বর, ২০২১, ৩:০০ পূর্বাহ্ন

এস এম পলাস///

দিনটা ছিল ২০০৭ সালে ১৫ নভেম্বর । বৃহস্পতিবার । জীবনে এমন কিছু স্মরণীয় দিন কিংবা ঘটনা থাকে যা কোনদিন ভূলবার নয় । এমন একটি দুঃস্মরণীয় রাত ১৫ নভেম্বর ২০০৭।যে দিন ঘূর্ণিঝড় সিডর বাংলাদেশেকে তছনছ করে দিয়েছিল । কেড়ে নিয়েছিল হাজার হাজার মানুষের প্রাণ। সেদিনের সে ঘটনার পর আরও কত মানুষের খোঁজ আজও পাওয়া যায়নি । প্রায় প্রতিটি মানুষকে করেছিল সহায় সম্বলহীন নিঃস্ব ।বিদ্যুত, খাদ্য এবং আশ্রয়শূণ্য করে দিয়েছিল গোটা জনপদকে ও এর অধিবাসীদেরকে । যোগাযোগ ব্যবস্থাও হয়েছিল বিচ্ছিন্ন । একদিকে দেশে চলছিল সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের নির্দেশে অন্যদিকে প্রকৃতির প্রলয়। সেদিন মানুষ জ্ঞানশুন্য হয়ে দিক-বেদিক ছুটেছিল । কেউ কেউ তাণ্ডবের কবল থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারলেও বাঁচাতে পারেনি নিকট আত্মীয় স্বজনকে।কারো কারো মৃতদেহ খুঁজে পাওয়া গেলেও বহু মৃতদেহ রয়ে গেছে নিঁখোজ । সেদিনের সে মহাপ্রলয় আজও স্মৃতির মানসপটে দুঃস্বপ্নের মত ভেসে ওঠে । আজও কাঁদায় এবং ভয়ে শিউরে উঠি । সে দিনের সেই ভয়াবহতা কি কোনদিন স্মৃতি থেকে মূছে দিত পারব ? ঘূর্ণিঝড় সিডর (অতি মারাত্মক ঘূর্ণিঝড় সিড্র, ইংরেজীতে (Very severe Cyclonic storm Sidr) হচ্ছে ২০০৭ সালে বঙ্গোপসাগর এলাকায় সৃষ্ট একটি ঘূর্ণিঝড় । ২০০৭ সালে উত্তর ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড়ের মধ্যে এটি চতুর্থ নামকৃত ঘূর্ণিঝড়।এটির আরেকটি নাম ট্রপিক্যাল সাইক্লোন ০৬বি (Tropical Cyclone 06B) । শ্রীলংকান শব্দ ‘সিডর’ বা ‘চোখ’ এর নামে এর নামকরণ করা হয়েছিল । ২০০৭ সালের ৯ নভেম্বর আন্দামান দ্বীপপুঞ্জে একটি দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার সৃষ্টি হয় । ১১ নভেম্বর আবহাওয়ায় সামান্য দুর্যোগের আভাস পাওয়া যায়, এবং পরের দিন তা ঘূর্ণিঝড় সিডর-এ পরিণত হয় । বঙ্গোপসাগরের বিস্তীর্ণ জলরাশিতে এটি দ্রুত শক্তি সঞ্চয় করে এবং বাংলাদেশে একটি দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার সৃষ্টি করে । ১৩ নভেম্বর সকাল থেকে আকাশ ছিল মেঘলা এবং সাথে অবিরাম গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছিল। কোন বাতাস ছিল না । প্রকৃতি ছিল অত্যন্ত গুমোট। ১৪ নভেম্বর আবহাওয়াবিদরা প্রথমে ৫ নম্বর সংকেত দিতে থাকেন এবং তা রাত অবধি ৮নং বিপদ সংকেতে গিঁয়ে পৌঁছে । ১৫ নভেম্বর সকালে ঘোষণা করা হয়, সিডর নামের ঘূর্ণিঝড় ধীরে ধীরে বাংলাদেশ উপকূলে এগিয়ে আসছে । দুপুর নাগাদ তা বাংলাদেশ উপকূল অতিক্রম করবে । মুহুর্তেই ১০ নম্বর বিপদ সংকেত ঘোষণা করা হল । রেডিও কিংবা টেলিভিশনে কয়েক মিনিটি পরপর আবহাওয়ার বিশেষ বুলেটিন ঘোষণা হতে থাকল । অবশেষে ১৫ নভেম্বর রাত ৯টায় এটি বাংলাদেশে আঘাত হানে । উল্লেখ্য যে, ১৫ নভেম্বর সকাল পর্যন্ত বাতাসের বেগ ছিল ঘন্টায় ২৬০কি.মি/ঘন্টা এবং ৩০৫কি.মি/ঘন্টা বেগে দমকা হাওয়া বইছিলো। একারণে সাফির-সিম্পসন স্কেল অনুযায়ী সিডরকে ক্যাটেগরি-৫ মাত্রার ঘূর্ণিঝড় আখ্যা দেয়া হয় । ঘূর্ণিঝড় সিডর সর্বপ্রথম আঘাত হানে দুবলারচরে । পর‌্যায়ক্রমে এটি আঘাত হানে বরিশালের সকল উপকূলে। পিরোজপুর, পটুয়াখালী, ভোলা, সাতক্ষীরা, লক্ষীপুর, ঝালকাঠীসহ বাংলাদেশের প্রায় ৩১টি জেলায় । সিডরের প্রচন্ড আঘাতে তুলার মত উড়তে থাকে সবকিছু । অবশেষে ১৫ নভেম্বরের গোটা রাত তান্ডব চালিয়ে শেষ রাতে উপকূল অতিক্রম করে ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ে। ঘূর্ণিঝড় সিডরের প্রবল আঘাত সহ্য করে যারা প্রাণে বেঁচে ছিল তার ১৬ নভেম্বর তাদের চেনা এলাকাকে আর চিনতে পারছিল না। এমনকি নিজ বাড়িটিকেও চিনতে কষ্ট হচ্ছিল। সকাল থেকেই আর্তনাদের বেদনাবিধুর বিলাপ ভেঁসে আসতে থাকে। ঘুর্ণিঝড়ে সব লন্ডভন্ড করে দিয়েছে । আধা পাকা, কাঁচা এমনকি পাকা বাড়িও ঝড়ের কবলে পড়ে ভেঙ্গে চুরমার হয়ে যায়। যে দৃশ্য আসলে নিজ চোখে না দেখলে বর্ণনা করে বোঝানে প্রায় অসম্ভব ।
এস এম পলাস
বাকেরগঞ্জ।

এ জাতীয় আরো খবর
আমাদের ফেইসবুক পেইজ