সোমবার, ২৯ নভেম্বর ২০২১, ০২:৩৬ অপরাহ্ন বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी
শিরোনাম :
পৃষ্ঠপোষকতা পেলে পুনরায় স্কুলমুখী হবে সীমা বাঘায় নৌকার চেয়ারম্যান প্রার্থীগনের মনোনয়নপত্র দাখিল। পুলিশের হাতে ইয়াবা সহ স্বামী স্ত্রী আটক। বেলাব উপজেলা আওয়ামীলীগের উদ্যোগে আলোচনা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত। সী-প্লেনের আদলে হোভারক্রাফট তৈরি করেছেন ক্ষুদে বিজ্ঞানী শাওন।।  বাকেরগঞ্জে বিজয় দিবস উদযাপন উপলক্ষ্যে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত। মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কর্তৃক দুঃস্থদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ কালিয়া নির্বাচন সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা বিষয় মতবিনিময় সভা বাঘায় মোজাহার হোসেন মহিলা ডিগ্রি কলেজে শিক্ষার্থীদের বিদায় উপলক্ষে আলোচনা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত মীর্জাগঞ্জে সাংবাদিকদের উপরে হামলার প্রতিবাদে বাকেরগঞ্জে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত
নোটিশ:
প্রতিনিধি নিয়োগের জন্য যোগাযোগ করুন: ০১৭২৬ ০৫ ০৫ ০৮
অবৈধ বালু কাটায়  কুয়াকাটা সৈকত।।
/ ৭৯ বার
আপডেট সময় : সোমবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২১, ১:৫৯ অপরাহ্ন
কলাপাড়া(পটুয়াখালী)প্রতিনিধি।। যেখানের বালুক্ষয় রোধ করবে, সেখান থেকেই বালু কেটে বস্তাবন্দি করা হচ্ছে। সৌন্দর্যের লীলাভ‚মি খ্যাত সাগরকন্যাখ্যাত কুয়াকাটা সৈকত তীব্র স্রোত ও ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষার নামে সৈকতের প্রধান প্রধান জায়গা ও তীর থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এর ফলে সৈকতের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছে। সরকারী বিধি লঙ্ঘন করে বহুদিন ধরে এসব অবৈধ কার্যক্রম চলছে। কোন ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও যাচাই-বাছাই না করে ইচ্ছেমত যখন তখন ড্রেজার লাগিয়ে, আবার কখনো কখনো শ্রমিক দিয়ে সৈকতের তীরেও খনন করে বালু কাটাছে তারা। এর ফলে ইতিহাস-ঐতিহ্যের সৈকত লেভেল হারতে বসেছে। সেই সাথে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে সৈকতের নান্দনিকতা। এমনটাই অভিযোগ করেছেন সৈকত সংশ্লিষ্ট ব্যাবসায়ী, পর্যটক এবং স্থানীয় জনগণ।
সরেজমিনে দেখা যায়, অবৈধ বালু কাটার ফলে নিচু গর্তে পানি জমে গেছে। কুয়াকাটা বীচ ম্যানেজমেন্ট কমিটি কিংবা পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাগণ বিষয়টি নিয়ে কোন ধরনের কার্যকর ভূমিকা নিচ্ছেন না। ফলে বন্ধ হচ্ছে না সৈকতের বালু কাটা। কুয়াকাটা সৈকতের জিরো পয়েন্টে এখন দেখা যায় এবড়ো থেবড়ো অবস্থা। উঁচু-নিচু বেলাভূমিতে নিরাপদে হাঁটা যায়না। বালুর বস্তা, আবার কংক্রিটের আস্তরণ, কোথাও বালু কাটার স্পটে ছোট ডোবার মতো পানি জমে আছে। যেন অচেনা কোন নদীর তীর। জোয়ারের সময় ওয়াকিং জোন থাকছে না। তাই কুয়াকাটা সৈকত থেকে ফ্রী স্টাইলে বালু কাটা বন্ধ করা এবং সৈকতের সৌন্দর্য রক্ষা পর্যটকসহ সচেতন মানুষের প্রানের দাবি।
কুয়াকাটা পায়রা হোটেল’র স্বত্তাধিকারী মো.রেজাউল করিম জানান, গত বছর থেকে এভাবেই বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। কিন্তু  এটা দেখার কেউ নেই। শীঘ্রই এভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ করার জন্য সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
যশোর থেকে আসা পর্যটক উর্মি রায় জানান, বাচ্চাদের নিয়ে গোসল করতে নেমেছিলাম, এভাবে উঁচু নিচু তা বুঝতে পারিনি। একটা দূর্ঘটনা থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছি।
সৈকতের ফটোগ্রাফার মাসুদসহ অন্যরা বলেন, এভাবে বালু তোলার কারনে বীচের লেভেল উঁচু-নিচু হয়ে গেছে। বর্তমানে পর্যটকরা বেড়াতে এসে আনন্দে দৌড় দিলে খুব রিস্ক হয়ে যায়। এ বছর অনেক পর্যটক হাত-পায়ে প্রচুর আঘাত পেয়েছে।
কুয়াকাটা ট্যুরিজম ম্যানেজমেন্ট এসোসিয়েশন’র সিনিয়র সহ-সভাপতি এবং কুয়াকাটা শিল্পগোষ্ঠীর সভাপতি হোসাইন আমির জানান, স্থানীয় ভাবে আমরা এই কাজের নিন্দা জানাই। কিছু দপ্তরের অপরিকল্পিত কাজে সরকারের মহাপরিকল্পনা ব্যাহত এবং ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। তিনি আরও জানান, ভাঙ্গন প্রতিরোধে পাউবো এ যাবৎ যতবার কাজ করেছে ততবারই ব্যার্থ হয়েছে শুধুমাত্র অপরিকল্পিত কাজের জন্য। তিনি আরও জানান, পাউবো কর্মকর্তাদের কাছে যানতে চাইলে তারা বলেন, ওয়ার্ক প্ল্যান এভাবেই রয়েছে। এতে কোন সমস্যা নেই।
কুয়াকাটা পৌরসভার মেয়র আনোয়ার হাওলাদার জানান, এভাবে বালু উত্তোলন করায় সৈকতের সৈন্দর্য বিঘ্নিত হচ্ছে। এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের সাথে একাধিকবার আলাপ করেছি। তারা জানিয়েছেন আমাদের প্লানে এ ভাবেই দেয়া রয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রোকৌশলী মো.আরিফ হোসেন জানান, গত বছর থেকে শুরু হওয়া আমাদের কার্যক্রম এভাবেই চলছে। তিনি আরও জানান, ডিসি অফিস থেকে নির্দেশনা মোতাবেক আমারা কাজ করছি। যার সকল কাগজ পত্র আমাদের কাছে রয়েছে। ভাটা শেষে জোয়ার আসলে এই ফাঁকা যায়গা পুরন হয়ে যায় বলে তিনি জানিয়েছেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও কুয়াকাটা বীচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির সদস্য সচিব আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহিদুল হক জানান, অবৈধ বালু কাটা বন্ধ করতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের  প্রকৌশলীদের সঙ্গে কথা বলেছেন। সৈকতের সৌন্দর্য রক্ষার জন্য আইন অনুযায়ী দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।
এ জাতীয় আরো খবর
আমাদের ফেইসবুক পেইজ