বুধবার, ২৭ অক্টোবর ২০২১, ০২:৫২ অপরাহ্ন বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी
শিরোনাম :
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের ১৫তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন। বাগেরহাটের রামপালে রাজনগর ইউপি’র নির্বাচনী পথসভা অনুষ্ঠিত বেলাবতে প্রকল্প অবহিতকরণ সভার আয়োজন নড়াইলে ফল ব্যবসায়ী  কুপিয়ে হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা গৃহপালিত একটি মুরগী হঠাৎ করেই মোরগে রুপান্তরিত হয়ে গেছে বগুড়া ধুনটে হ্যান্ডমাইক নিয়ে রাস্তায় নেমে এলেন মেয়র নিজেই অবৈধ বালু কাটায়  কুয়াকাটা সৈকত।। নিষেধাজ্ঞা শেষে মাছ শিকারে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে উপকূলের জেলেরা রামপালের ফয়লাহাট থেকে র‌্যাবের হাতে কথিত জ্বীনের বাদশা প্রতারক চক্রের সদস্য আটক দক্ষিণের পায়রা সেতু’ উদ্বোধনের মধ্যে দিয়ে সৃষ্টি হলো নতুন ইতিহাস। বিলুপ্ত হলো ফেরী পাড়াপাড়
নোটিশ:
প্রতিনিধি নিয়োগের জন্য যোগাযোগ করুন: ০১৭২৬ ০৫ ০৫ ০৮
সরকারের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বাকেরগঞ্জে চলছে মা ইলিশ শিকারের উৎসব!
/ ১৭৪ বার
আপডেট সময় : শনিবার, ৯ অক্টোবর, ২০২১, ৯:৪৭ পূর্বাহ্ন

 

প্রভাবশালী সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করছে ইলিশের বাজার!!

জিয়াউল হক //
সরকারিভাবে নিষেধাজ্ঞার সময় বাকেরগঞ্জের বিভিন্ন নদীতে মা ইলিশ শিকারের যেন উৎসব চলছে। উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মৎস্য দপ্তর ইলিশ রক্ষায় অভিযান চালালেও জেলেদের থামাতে পারছেন না। কৌশল পাল্টে জেলেরা উপজেলার নারাঙ্গল, পূর্ব ভরপাশা রাজগঞ্জ নদী, কলসকাঠী ইউনিয়নের দক্ষিণ সাদিস পান্ডব নদী, নিয়ামতি ইউনিয়ন এর বিষখালী নদী, ফরিদপুর ইউনিয়ন এর কারখানা নদী, নলুয়া ইউনিয়নের নদীতে মা ইলিশ শিকার করছেন। সরকারি সহযোগিতা পেয়েও জেলেরা আইন অমান্য করে মাছ ধরায় জনপ্রতিনিধিরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

জানা গেছে, ৪ অক্টোবর থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ ঘোষণা করে সরকার। এই সময়ে জেলেদের জন্য চাল দেওয়া হয়। ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানগণ ইতিমধ্যে জেলেদের মাঝে চাল বিতরণ করছেন। কিন্তু আজ শনিবার উপজেলার বিভিন্ন নদীতে সহস্রাধিক নৌকায় জেলেরা মাছ ধরেন।

ইলিশ নিধনে পেশাজীবী জেলেদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন মৌসুমি জেলেরা। এসব লোকজন ইটের ভাটা, কৃষি কাজ, এমন কি জেলে পরিবারের স্কুল কলেপড়ুয়া ছাত্ররা ইলিশের প্রজনন মৌসুমে তারা পেশাজীবী জেলেদের সঙ্গে যোগ দিয়ে মাছ শিকার করেন। কিছু জেলে শিক্ষার্থীদের নিয়ে মাছ ধরেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

চরলক্ষীপাশা গ্রামের স্থানীয় লোকজন জানান, ইলিশ ধরা, বিক্রয় ও পরিবহন করা নিষিদ্ধ। কিন্তু জেলেরা সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে রাজগঞ্জ, পান্ডব,পায়রা নদীতে মাছ ধরছেন। জেলেদের সহযোগিতা করছেন তাদের পরিবারের নারী ও শিশু সদস্যরা।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, মা ইলিশ শিকারে রয়েছে ভয়ঙ্কর সিন্ডিকেট, অভিযানের ট্রলার চালকদের সঙ্গে কতিপয় জেলে ও স্থানীয় নেতাদের আঁতাত রয়েছে। প্রশাসন কোথাও অভিযানে বের হলেই ট্রলার চালকেরা মুঠোফোনে বিষয়টি জানিয়ে দেয়। তাই তারা সহজেই পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।

এ ছাড়াও গ্রাম এলাকায় ইলিশের ভ্রাম্যমাণ বাজার দেখলে সহজেই বুঝা যায় অসাধু জেলেরা এখনো বেপরোয়াভাবে মা ইলিশ শিকার অব্যাহত রেখেছে। স্থানীয় প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে পরিচালনা করা হয় এই ইলিশের বাজার। জানা যায়, অসাধু জেলেরা প্রতিদিন কয়েকশ মণ মা ইলিশ নিধনের পর নদীর তীরবর্তী গ্রামগুলোতে ভাসমান হাট বসিয়ে দেদারছে বিক্রি করে ইলিশ। কতিপয় অসাধু ব্যবসায়ী তীরবর্তী গ্রামগুলোর ভাসমান হাট থেকে ৩ শত ৪ শত টাকা কেজি করে ক্রয় করে নিয়ে আসে উপজেলা শহরে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে দূরের গ্রাম এলাকায় সেগুলোকে ৬ / ৭ শত টাকা কেজিতে বিক্রি করছে। প্রশাসন-আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখে ফাঁকি দিয়ে অসাধু জেলেরা মা ইলিশ শিকার ও কেনাবেচা অব্যাহত রেখেছে যেগুলো ছড়িয়ে পড়ছে প্রান্তিক এলাকায়।

ভরপাশা ইউনিয়ন এর চেয়ারম্যান আশ্রাফুজ্জামান খোকন বলেন, সরকার জেলেদের চাল দিয়েছে। এরপর জেলেরা নদীতে ইলিশ শিকার করার বিষয়টি দুঃখজনক। আমি আমার ইউনিয়নের সব জেলেদের আগেই সতর্ক করে দিয়েছি। তারপরও কেউ যদি মা ইলিশ শিকার করে, শীঘ্রই উপজেলা প্রশাসনের সাথে কথা বলে মা ইলিশ শিকার বন্ধ করা হবে।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা রাকিব হাসান জানান, আমরা তিনটি ইউনিট উপজেলায় বিভিন্ন নদীতে দ্রুতগামী নৌকা ও ট্রলার নিয়ে অভিযান চালাচ্ছি। কিন্তু জেলেরা তাদের ছোট নৌকায় অস্থায়ী ইঞ্জিন লাগিয়ে নিয়েছেন। ফলে প্রশাসনের অভিযান টের পেলেই দ্রুত পালিয়ে যান তারা। এ ছাড়া ছোট খালে প্রবেশের পর অভিযানকারীরা তাদের নাগাল পায় না। এ ছাড়াও আমাদের কাছে (স্পিড বোট) না থাকাতে অভিযান পরিচালনায় হিমশিম খাচ্ছি।

এ জাতীয় আরো খবর
আমাদের ফেইসবুক পেইজ