বুধবার, ২৭ অক্টোবর ২০২১, ০৩:১৪ অপরাহ্ন বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी
শিরোনাম :
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের ১৫তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন। বাগেরহাটের রামপালে রাজনগর ইউপি’র নির্বাচনী পথসভা অনুষ্ঠিত বেলাবতে প্রকল্প অবহিতকরণ সভার আয়োজন নড়াইলে ফল ব্যবসায়ী  কুপিয়ে হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা গৃহপালিত একটি মুরগী হঠাৎ করেই মোরগে রুপান্তরিত হয়ে গেছে বগুড়া ধুনটে হ্যান্ডমাইক নিয়ে রাস্তায় নেমে এলেন মেয়র নিজেই অবৈধ বালু কাটায়  কুয়াকাটা সৈকত।। নিষেধাজ্ঞা শেষে মাছ শিকারে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে উপকূলের জেলেরা রামপালের ফয়লাহাট থেকে র‌্যাবের হাতে কথিত জ্বীনের বাদশা প্রতারক চক্রের সদস্য আটক দক্ষিণের পায়রা সেতু’ উদ্বোধনের মধ্যে দিয়ে সৃষ্টি হলো নতুন ইতিহাস। বিলুপ্ত হলো ফেরী পাড়াপাড়
নোটিশ:
প্রতিনিধি নিয়োগের জন্য যোগাযোগ করুন: ০১৭২৬ ০৫ ০৫ ০৮
বাকেরগঞ্জে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এইচএসসি ফরম ফিলাপে বাণিজ্যের অভিযোগ
/ ৫৬ বার
আপডেট সময় : বুধবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ১০:২৫ পূর্বাহ্ন

 

জিয়াউল হক//

বরিশালের বাকেরগঞ্জ বিভিন্ন কলেজে চলছে ফরম ফিলাপ। ফরম ফিলাপে বাণিজ্যের অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলার -বেসরকারি কলেজগুলোতে এইচএসসি ২০২১ পরীক্ষার্থীদের ফরম পূরণের কাজ শেষের দিকে। এ সুযোগে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে অতিরিক্ত টাকা।

এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে ফরম পূরণ বাবদ অতিরিক্ত টাকা না নেয়ার জন্য হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা , মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড বরিশাল ও জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে কঠোর নির্দেশনা থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। উপজেলার কয়েকটি কলেজ শিক্ষার্থীরা এইচএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণকে সামনে রেখে প্রতিষ্ঠান প্রধানদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে।

প্রথম সকাল অনুসন্ধানে দেখা গেছে, উপজেলা কলস কাঠী ডিগ্রি কলেজ সহ প্রায় সবকটি কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে বোর্ড নির্ধারিত ফি’র চেয়ে কয়েক গুন অতিরিক্ত টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। নির্ধারিত বোর্ড ফি’র চেয়ে কয়েক হাজার টাকা বেশি নির্ধারণ করে শিক্ষার্থীদের মোবাইলে ক্ষুদে বার্তা (এসএমএস) পাঠিয়েছে কলেজ কর্তৃপক্ষ।

কয়েক হাজার শিক্ষার্থীর কাছ থেকে এই অতিরিক্ত টাকা উত্তোলন করলে যার অংক দাঁড়াবে প্রায় দেড় কোটি টাকা। এমনকি এসব কারণে শিক্ষার্থীরা ফরম ফিলাপ সম্পন্ন করতে পারেনি। যা নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে বিরাজ করছে অসন্তোষ ও চাপা ক্ষোভ। অনেক শিক্ষার্থী আবার প্রকাশ্যেও জানিয়েছেন এর প্রতিবাদ। প্রতিকার না পেয়ে ফিরে গেছেন অনেকেই।

সরেজমিনে প্রতিষ্ঠান গুলোতে গিয়ে কতৃপক্ষের সাথে কথা বলে মেলে এর সত্যতা। তবে প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষরা বলছেন, এই অতিরিক্ত টাকার মধ্যে প্রতিষ্ঠানের অনেক খরচ আছে। তবে প্রতিটি শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে নেয়া এই অতিরিক্ত টাকা নির্দিষ্ট কি কি কারণে খরচ করা হবে এর সঠিক কোনও উত্তর দিতে পারেননি তারা।

অন্যদিকে ১২ তারিখ থেকে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের ফরম ফিলাপ শুরু হলেও আজ পর্যন্ত পরীক্ষার্থীর ফরম ফিলাপ সম্পন্ন হয়নি।

পরীক্ষার্থী মোঃ রেদওয়ান সহ আরও কয়েকজন বলেন আমরা এতো টাকা কোথায় পাবো দেনা কর্জ করে আমাদেরকে এই টাকা পরিশোধ করতে হবে।
বোর্ড ফি ৮০০শ টাকা কেন্দ্র ফি ব্যাবহারিক সহ ৩৬০ টাক বিজ্ঞান শাখা ১১৬০ মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা শাখা ১০৭০ ব্যবহারিক পরীক্ষায় ৩০ টাকা হলেও ফরম ফিলাপের জন্য ৬থেকে ৮ হাজার টাকা ধরে মোবাইল ফোনে এসএমএস পাঠানো হয়েছে।

এতো বেশি টাকা কেন ধরা হয়েছে জানতে কলস কাঠী ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ কাজী মোঃ হুমায়ুন কবিরের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান ,আমরা মাসিক ২ শত টাকা বেতন হারে দু-বসরে ৪৮ শত এবং বোর্ড ফি সহ ৬ হাজার টাকা নির্ধারণ করেছি।
আমাকে অনেককিছু বাবদ খরচ করতে হয়
এমনই বক্তব্য তাদের।

শিক্ষার্থীরা আরও বলেন, আমরা এর প্রতিবাদ জানাচ্ছি, ফরম ফিলাপে এত টাকা বেশি ধরা মোটেও উচিৎ নয়। কয়েক হাজার শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ৪ হাজার টাকা করে বেশি নেয়া এই অতিরিক্ত প্রায় দের কুটি টাকা কোথায় যাবে সেটাও জানতে চায় শিক্ষার্থীরা।

বেগম শামসুদ্দিন তালুকদার ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ মজিবুর রহমান মুঠোফোনে যায়যায়দিন কে বলেন, আমরা ছাত্র ছাত্রী দের মাসিক বেতন ১৫০টাকা করে দুই বছরে ৩৬ শত এবং বোর্ড ফি সহ এসএমএস করে জানিয়েছি, প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব কিছু খরচ আছে যার জন্য এই অতিরিক্ত অর্থ ধরা হয়েছে।

মাত্রা অতিরিক্ত ফি আদায় কারী প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে
কলস কাঠী ডিগ্রী কলেজ ৬ থেকে ৮হাজা টাকা।
বেগম শামস উদ্দিন তালুকদার ডিগ্রী কলেজ ৬ থেকে ৮ হাজার টাকা। আলহাজ্ব হযরত আলী ডিগ্রি কলেজ ৬হাজার টাকা। হেলাল উদ্দিন আহমেদ ডিগ্রি কলেজ ৬৬ শত টাকা।এম এ মালেক ডিগ্রি কলেজ ৫ হাজার থেকে ৬ হাজার টাকা । কবাই ইউনিয়ন ইসলামিয়া ডিগ্রি কলেজ ৫ হাজার থেকে ৭ হাজার টাকা। আতাহার উদ্দিন ডিগ্রি কলেজ ৬ হাজার টাকা।
বাদোল পাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজ ৬ হাজার টাকা। কে জি এস ইস্কুল এন্ড কলেজ ৬ হাজার টাকা। সি এন বি ডিগ্রি কলেজ ৫ গাজার টাকা ফরম ফিলাপ বাবদ উত্তলন করলেও কেহই কোনো রশিদ দেননি।
প্রতিষ্ঠান প্রধান গন বলেন, টাকা টা যে একাউন্টে জমা হবে সেটা বোর্ডও জানবে। তাই এবিষয়ে বেশি কিছু বলার নাই।

এ বিষয়ে বাকেরগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ আকমল হোসেন বলেন মাসিক বেতন নেয়ার বিধান থাকলেও করোনা কালিন সময়ে এতো টাকা নেয়া ঠিক হয়নি।
এ বিষয়ে শিক্ষা বোর্ড ও প্রতিষ্ঠানের সভাপতি এবং ইউএনও মহোদয় ভালো বলতে পারবেন।

এ বিষয়ে বাকেরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাধবি রায় জানান আমি লিখিত অভিযোগ পাইনি অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ জাতীয় আরো খবর
আমাদের ফেইসবুক পেইজ