সোমবার, ২৯ নভেম্বর ২০২১, ০২:৪২ অপরাহ্ন বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी
শিরোনাম :
পৃষ্ঠপোষকতা পেলে পুনরায় স্কুলমুখী হবে সীমা বাঘায় নৌকার চেয়ারম্যান প্রার্থীগনের মনোনয়নপত্র দাখিল। পুলিশের হাতে ইয়াবা সহ স্বামী স্ত্রী আটক। বেলাব উপজেলা আওয়ামীলীগের উদ্যোগে আলোচনা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত। সী-প্লেনের আদলে হোভারক্রাফট তৈরি করেছেন ক্ষুদে বিজ্ঞানী শাওন।।  বাকেরগঞ্জে বিজয় দিবস উদযাপন উপলক্ষ্যে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত। মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কর্তৃক দুঃস্থদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ কালিয়া নির্বাচন সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা বিষয় মতবিনিময় সভা বাঘায় মোজাহার হোসেন মহিলা ডিগ্রি কলেজে শিক্ষার্থীদের বিদায় উপলক্ষে আলোচনা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত মীর্জাগঞ্জে সাংবাদিকদের উপরে হামলার প্রতিবাদে বাকেরগঞ্জে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত
নোটিশ:
প্রতিনিধি নিয়োগের জন্য যোগাযোগ করুন: ০১৭২৬ ০৫ ০৫ ০৮
জগন্নাথপুর করোনাকালে মানবিক কাজে সাত বন্ধু বাড়ি বাড়ি গিয়ে অক্সিজেন সিলিন্ডার পৌঁছে দিচ্ছেন।।।
/ ৮১ বার
আপডেট সময় : সোমবার, ৯ আগস্ট, ২০২১, ৪:২৮ অপরাহ্ন

 

গোবিন্দ দেব জগন্নাথপুর প্রতিনিধি সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে মোটরসাইকেলযোগে মুমূর্ষু রোগীদের অক্সিজেন সিলিন্ডার পৌঁছে দিচ্ছেন তরুণেরা। তাঁরা সাত বন্ধু, বয়সে তরুণ। সবাই শিক্ষার্থী। করোনা পরিস্থিতিতে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার এই তরুণেরা সামাজিক ও মানবিক কাজে নিজেদের সম্পৃক্ত রেখেছেন। এখন মুমূর্ষু করোনা রোগীদের বাড়িতে পৌঁছে দিচ্ছেন অক্সিজেন সিলিন্ডার। এ ছাড়া করোনাসচেতনতার পাশাপাশি বাড়ি বাড়ি গিয়ে টিকার নিবন্ধন করে দেওয়াসহ গণটিকা কার্যক্রমে স্বেচ্ছাসেবকের দায়িত্বেও যুক্ত হয়েছেন তাঁরা। এই সাত তরুণ হলেন জগন্নাথপুর উপজেলার পাটলী ইউনিয়নের পাটলী গ্রামের বাসিন্দা সিলেট মদন মোহন কলেজের শিক্ষার্থী জুহের আহমেদ চৌধুরী, জগন্নাথপুর ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী জুনেদ আহমেদ, নুর আলী, ফয়সল আহমেদ, ফুজেল আহমেদ, মাছুম চৌধুরী ও জুবেল আহমেদ। জগন্নাথপুর এলাকাবাসী ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্র জানায়, করোনা পরিস্থিতিতে মুমূর্ষু রোগীদের কথা চিন্তা করে পাটলী ইউনিয়নের প্রবাসীদের উদ্যোগে পাটলী বেসরকারি হাসপাতালে ২০টি অক্সিজেন সিলিন্ডার প্রদান করা হয়। এসব অক্সিজেন সিলিন্ডার করোনায় আক্রান্ত মুমূর্ষু রোগীদের জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার পরামর্শে ব্যবহারের সিদ্ধান্ত হয়। এ জন্য শুরুতে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করতে এগিয়ে আসেন এই সাত তরুণ। উপজেলার সীমান্তবর্তী ঝিগলী গ্রামে এক মুমূর্ষু করোনা রোগীকে চিকিৎসকের পরামর্শে অক্সিজেন সেবা পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে তাঁদের মানবিক কার্যক্রম শুরু হয়। এখন দিনরাত উপজেলার নানা প্রান্তে খবর পেলেই মুমূর্ষু রোগীদের জন্য অক্সিজেন সিলিন্ডার নিয়ে তাঁরা হাজির হচ্ছেন। তাঁদের কার্যক্রমের প্রশংসা ছড়িয়ে পড়ছে উপজেলাব্যাপী। শুধু অক্সিজেন পৌঁছে দেওয়াই নয়, নিজেদের উদ্যোগে বাড়ি বাড়ি গিয়ে টিকার নিবন্ধন করে দিচ্ছেন। গণটিকা কার্যক্রমেও স্বেচ্ছাসেবকের দায়িত্ব পালন করছেন। স্বেচ্ছাসেবক দলের সমন্বয়ক জুহের আহমেদ চৌধুরী বলেন, সামাজিক দায়বদ্ধতা ও মানবিক মূল্যবোধ থেকে করোনাকালে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য তাঁরা কাজগুলো করছেন। সাত বন্ধু নিজস্ব মোটরসাইকেল নিয়ে চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী অক্সিজেন বাড়ি বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার কাজ করছেন। স্বেচ্ছাসেবক জুনেদ আহমেদ তাঁর অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, এক বৃদ্ধ নারী করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন। তাঁর ছেলেমেয়ে সবাই প্রবাসে। করোনার খবর পেয়ে স্বজন ও প্রতিবেশীরা তাঁর সঙ্গ ত্যাগ করেন। চিকিৎসকের পরামর্শে তাঁকে অক্সিজেন সেবা দেওয়ার পর তিনি অনেকটা সুস্থ বোধ করেন। করোনাকালে অসুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাঁদের মুখে একটু হাসি ফোটাতে পারায় তাঁরা তৃপ্ত। জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মধুসূধন ধর বলেন, জগন্নাথপুর করোনা পরিস্থিতিতে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের পাশে মানবিক কাজে দাঁড়িয়ে ওই সাত তরুণ মানবসেবার দৃষ্টান্ত স্থাপন করছেন। উপজেলার নানা প্রান্তে স্বাস্থ্য বিভাগের পরামর্শে তাঁরা করোনায় আক্রান্ত মুমূর্ষু রোগীদের অক্সিজেন সেবা দিয়ে সুস্থ করে তুলতে ভূমিকা রাখছেন। তিনি বলেন, সম্প্রতি করোনায় আক্রান্ত প্রত্যন্ত এলাকার কমপক্ষে ২০ জন রোগীকে তাঁরা এ সেবা দিয়ে সংকটাপন্ন অবস্থা থেকে সুস্থ করে তুলেছেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পদ্মাসন সিংহ বলেন, করোনাকালে মানবিক কাজে ওই তরুণদের স্বেচ্ছাশ্রম দিচ্চেন স্মরণীয় হয়ে থাকবে। আমি তাঁদের সফলতা কামনা করেন।।

এ জাতীয় আরো খবর
আমাদের ফেইসবুক পেইজ