বুধবার, ২৭ অক্টোবর ২০২১, ০৩:৪৮ অপরাহ্ন বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी
শিরোনাম :
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের ১৫তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন। বাগেরহাটের রামপালে রাজনগর ইউপি’র নির্বাচনী পথসভা অনুষ্ঠিত বেলাবতে প্রকল্প অবহিতকরণ সভার আয়োজন নড়াইলে ফল ব্যবসায়ী  কুপিয়ে হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা গৃহপালিত একটি মুরগী হঠাৎ করেই মোরগে রুপান্তরিত হয়ে গেছে বগুড়া ধুনটে হ্যান্ডমাইক নিয়ে রাস্তায় নেমে এলেন মেয়র নিজেই অবৈধ বালু কাটায়  কুয়াকাটা সৈকত।। নিষেধাজ্ঞা শেষে মাছ শিকারে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে উপকূলের জেলেরা রামপালের ফয়লাহাট থেকে র‌্যাবের হাতে কথিত জ্বীনের বাদশা প্রতারক চক্রের সদস্য আটক দক্ষিণের পায়রা সেতু’ উদ্বোধনের মধ্যে দিয়ে সৃষ্টি হলো নতুন ইতিহাস। বিলুপ্ত হলো ফেরী পাড়াপাড়
নোটিশ:
প্রতিনিধি নিয়োগের জন্য যোগাযোগ করুন: ০১৭২৬ ০৫ ০৫ ০৮
বাকেরগঞ্জে একটি ঘর পেতে অসহায় ভিক্ষুক রাজিয়ার আর্তনাদ !!
/ ৯৫ বার
আপডেট সময় : সোমবার, ৯ আগস্ট, ২০২১, ৯:৩৪ পূর্বাহ্ন
জিয়াউল হক//
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিশ্রুত প্রতিটি ঘরহীন মানুষকে ঘর তৈরি করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের অধীনে বিভিন্ন কর্মসূচির আওতায় ঘরহীন পরিবারকে ঘর তৈরি করে দেওয়ার কার্যক্রম চললেও যেনো ভাগ্যের চাকা ঘুরছে না ভিক্ষুক রাজিয়ার।
জন্মই যেন পৃথিবীতে আজন্ম অভিশাপ। রাজিয়ার সারাটা জীবন ভিক্ষায় ভিক্ষায় কেটে গেল। বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জ উপজেলার ১৩নং পাদ্রীশিপুর ইউনিয়নের বড় বগুনাতপুর গ্রামের রাজিয়া বেগম (৬৫) এর পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করছে। অন্যের বাড়িতে বাড়িতে ভিক্ষায় চলে তার সংসার। খালের পারে ভাঙ্গা ঘরে তার বসবাস।
জানা যায়, পাদ্রীশিবপুর ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের মৃত মোসলেম এর স্ত্রী রাজিয়া বেগম। তার পরিবারের সদস্য সংখ্যা ৪ জন। রাজিয়া বেগম মানুষের বাড়িতে বাড়িতে ভিক্ষা করে জীবিকা নির্বাহ করছে। তার কোন ছেলে না থাকায় মেয়ে নাতনী নিয়ে অসহায় হয়ে পড়েছেন। মেয়ের স্বামী না থাকায় মেয়ে ও নাতনীদের খরচ চলে তার ভিক্ষার চাউল দিয়ে। একধিকে তার স্বামী ২০ বছর আগে মারা যায়, অন্যদিকে মেয়ের জামাই খোজখবর না নেওয়ায় এখন তিনি দিশেহারা। বয়স হয়ে যাওয়ায় এখন তিনিও আগের মত ভিক্ষা করতে পারছেন না। থাকেন খাল পারে একটি ছোট্র ঘর তৈরি করে।
এ বিষয়ে রাজিয়া বেগম জানান, আমার জন্মের পরেই দরিদ্র পরিবারে হাতাশা লেগে রয়েছে। স্বামী ২০ বছর হয়েছে মারা গেছে। আমার কোন ছেলে না থাকায় আমাকে ধরতে হয় সংসারের হাল। বয়স হয়ে গেছে এখন আর ভিক্ষা করতে পারি না। আমার নেই কোন জায়গা জমি, নেই কোন ঘর।
তিনি আরও বলেন, সুনেছি শেখ হাসিনা আমাদের গরীবদের নাকি ঘর দেয়। যদি আমি একটি ঘর পেতাম তাহলে বাকি জীবনটা সুখে কাটাতে পারতাম। ভাঙ্গা ঘরে আর থাকতে হত না। থাকত না বৃষ্টির ভয়।
তিনি আরোও জানান, ২৫ বছর ধরে ভাঙ্গা ঘরে আমার বসবাস। মেঘ দেখলে বৃষ্টির ভয়! একটি ঘর পাওয়ায় আসায় মেম্বার থেকে শুরু করে ইউএনও অফিস পর্যন্ত বহু বার গেছি। চেয়ারম্যানের কাছ থেকে শুনেছে আমার নামে ঘর আইচে। ঘর পাওয়ার আসায় মেম্বার মজিবরের কাছে গেলে সে আমাকে থাপ্পর মারে। আমি মাটিতে পরে যাই, এই দেখেন আমার হাতে এখনও দাগ পরে আছে। আমি তাকে ভোট না দেওয়ায় সে আমাকে কিছু দেবে না বলে মারতে থাকেন। ভিক্ষুক রাজিয়া মাথা গোঁজার ঠাঁই পেতে জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে বড় বগুনাতপুর ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের মেম্বার মজিবর বলেন, আসলে রাজিয়া বেগমকে আমি একটা ধাক্কা দিয়েছি। তবে তার নামে একটি ঘর ছিলো, সেই ঘরটি কি হয়েছে আমি জানিনা। অতিদরিদ্র নামের তালিকায় তার নামকি আছে? আসলে অতিদরিদ্র (ইজিপিপি) কর্মসুচীর কাজ আমরা লেভারকে চুক্তিতে দেই, তারা তাদের মতো করেন। অতিদরিদ্র মহিলাদের দিয়ে কাজ করানো হয় না। সরকারি ভাবে তাকে অন্যান্য সহযোগীতা করা হয় না কি। মেম্বার বলেন, বয়স্ক ভাতা পায়, আর কি দিবো।
ভিক্ষুক রাজিয়ার বিষয় বাকেরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাধুবী রায় বলেন, বর্তমানে সরকারীভাবে কোন ঘর নেই। পরবর্তীতে যদি ঘর আসে সে পাবে। ইউপি সদস্যর বিষয় তিনি বলেন, সে যদি কোন অভিযোগ দেয় আমরা বিষয়টি তদন্ত করে মেম্বারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।
এ জাতীয় আরো খবর
আমাদের ফেইসবুক পেইজ