মঙ্গলবার, ১৭ মে ২০২২, ০৩:৪১ পূর্বাহ্ন বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी
শিরোনাম :
ভাইয়ের হাতে ভাই খুনের ঘটনায় ঘাতক ভাই আটক নলছিটিতে কৃষকদের মাঝে বিণামূল্যে সার ও বীজ বিতরণ জবিতে চৈত্র সংক্রান্তি উদযাপিত মোরেলগঞ্জে ভ্রাম্যমাণ আদালতে ৬ ব্যবসায়ীকে অর্থদন্ড রাজশাহীতে দুস্থদের মাঝে সত্যের জয় সামাজিক সংগঠনের ইফতার বিতরণ রামপালে সংখ্যালঘু শীল বংশের বারোয়ারী পুকুর দখল চেষ্টায় পূজা পরিষদের ক্ষোভ প্রকাশ বাকেরগঞ্জে তিন টি ইউনিয়নে প্রকৃত ভূমিহীন ও গৃহহীনদের (ক শ্রেণির) মধ্যে যাচাই-বাছাই নলছিটিতে ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত নারী প্রতিনিধিদের দায়িত্ব-কর্তব্য বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালা রাজশাহীর বাঘায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে কলেজ ছাত্রের মৃত‍্যু বাগেরহাটে ধর্ষনের অভিযোগে অটোরিক্সা চালক আটক
নোটিশ:
প্রতিনিধি নিয়োগের জন্য যোগাযোগ করুন: ০১৭২৬ ০৫ ০৫ ০৮
আমি বেড়ে উঠেছি পৃথিবীর নিকৃষ্টতম স্থানে-এস এম পলাস।
/ ২৯১ বার
আপডেট সময় : সোমবার, ৯ আগস্ট, ২০২১, ৪:১৫ পূর্বাহ্ন

একটি কথা আছে, মসজিদ পৃথিবীর উৎকৃষ্ট স্থান আর বাজার হলো নিকৃষ্টতম স্থান। সেই বাজারেই বেড়ে উঠেছি আমি। আামরা শৈশব, কৈশর কেটেছে বাকেরগঞ্জ উপজেলার বরিশাল পটুয়াখালী মহা সড়কের কোল ঘেষা বোয়ালিয়া বাজারে। ছোট বেলায় ঘুম আসত ডাকাত তাড়ানোর হৈ হুল্লা শুনে। রাত পোহালেই দেখতাম কতগুলো পরনিন্দাকারী মানুষের হাক ডাক, দুর্বলকে ঘায়েল করাই যেন ছিল এখানের কথিত সমাজপতিদের মহৎ কাজ। বিচারের নামে প্রহসন দেখেছি অনেক। রবিবার বুধবার হাট বসে, হাটের দিন মজমা বসত, সেখানে যিনি মজমা মিলাতেন তাকেই মনে করতাম পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ক্ষমতাধর সবজান্তা, তার হামকি ধুমকিতে মানুষ স্তব্ধ হয়ে যেত, এক সময় বাচ্চাদের বের করে দিয়ে পাচ টাকায় সকল যৌন সমস্যার চিরস্থায়ী সমাধান বা এক কবজে জীবনের মোড় ঘোরানো অথবা সব রোগ মুক্তির ঔষধ বিক্রী করত। সহজ সরল মানুষগুলো তাতেই বিশ্বাস করে গ্রহন করত, অথচ আমার সেই ছোট্ট বয়সেয় সন্দেহ হত, অবিশ্বাস হত।
বাজারে আগত মানুষগুলোর মুখে কখনোই অন্যের প্রসংশা শুনিনি বরং তিরস্কার, নিন্দা, অবহেলা, তুচ্ছ তাছিল্য করে অপরকে আঘেত করে কথা বলতে পারাই যেনো বীরত্ব। এখানে নারী, কন্যা, শিশুকণ্যাকে সকলেই যৌন বস্ত, দাসী ছাড়া অন্য কিছু ভাভার মানসিকতা দেখেনি কখনো, স্ত্রীকে ম্যাগী, নারী কে মাল বলে সুখ পেত তারা। কার্তিক মাসের কুকরের মতো প্রচন্ড কামুম পুরুষগুলো নারীদের দেখলেই চোয়ালে চাপ দিয়ে যৌনতা অনুভব করত, নানান রকম ঘৃনিত কথা ছুড়ে দিত। নারীর অধীকারের কথা কেউ কল্পনাও করতে পারেনি।
কুসংস্কারের গভীর অন্ধকার থেকে রক্ষা পায়নি একটি পরিবারও, ঝাড় ফুক, তাবিজ কবজ ছাড়া জীবন, সুস্থতা এখানে অসম্ভব, এমনকি আমার হাতে, কোমরে গলায় স্থান পেয়েছিল তাবিজ কবজ, যদিও বুঝে ওঠার পরে সব ছুড়ে ফেলে দিয়েছি।
দু-চার লাখ টাকার মালিককেই বিশিষ্ট ধনী মনে করা হত, আর পেট একটু ভারী হলেই তিনি হতেন সমাজপতি, আবার মসজিদ কমিটির সভাপতি নামাজ না পরলেও হত, যদি থাকে তার ভুিড়ি আর টাকা তবে নির্বোধ, নৈতিক চরিত্র পাশবিক হলেও চলবে।
এই বাজারে মাঝে মধ্যে চোর, পকেটমার ধরা পরত, হয়ত খুধার জ্বালায় দুই একশত টাকা চুড়ি করত, অমনি তার পিছু নিত কয়েক শত হিংস্র বর্বর মানুষরুপি জানোয়ার, চোরকে একটা কিল ঘুসি মারতে পারলেই যেনো মহৎ কাজ, কত নির্মভাবে দেখেছি সেই চোরকে পেটানোর দৃশ্য, একটি মনেও একটু মায়া জাগেনি বরং নির্যাতনের নতুন ভয়ংকর কৌশল নিয়ে আক্রমনের প্রতিযোগীতা চলত। অথচ এই বাজার যখন উপজেলা থেকে কোন ঘুশখোর কর্মকর্তা আসতো, তখন তার পা চাটতে একদল কুকুর দৌড়ঝাপ শুরু করত, একবার একটা কুত্তার বাচ্ছা আসছিল যে আমার ঘরের ডিসিয়ার করতেও আমার অসহায় গরীব বাবার কাছ থেকে বিশ হাজার টাকা নিয়েছে, এখানে সেই সকল জানোয়ারদের স্যার বলা হয়, দামী বিস্কুট কলা খাওয়ানো হয় অথচ ঐ খুধার্ত টোকাই, চোরের উপর চালত নরকীয় নির্যাতন।।
এখানে কর্মে নয় ধর্মের আনুষ্ঠানিকতা বহুল প্রচালিত, ওয়াজ মাহফিলে প্রচুর পরিমানে লোক হয়, ওয়াজ শুনে কেউ কেউ চিৎকার করে কাধেও, আাবার তারাই মাঠের বাইরে এসে মেতে উঠত হিংস্রতায়।
সুনামীর সময়ে একদিন মসজিদের ঘাটে গোসল করতে গিয়ে ইমাম সাহেবের কথা শুনে অবাক হলম, কয়েকজন ইমামকে প্রশ্ন করল, হুজুর জলকম্প কি? হুজুর বলল, পৃথিবীটা একটা গরুর শিং এর উপরে, গরু যখন শিং পরিবর্তন করে তখন পৃথিবী কেপে ওঠে, বাহ এই হলো ইমামের জ্ঞান।
আর এক হুজুরতো আমাকে বলদকার করার চেষ্ট করেছিল যদিও কৌশলে বেচে আসছি, তার পিছনে আমি সহ অনেকেই নামাজ পরছে কত।
বোয়ালিয়া বাজার এক সময় সন্ত্রাসের জনপদ ছিল, ডাকাতি, মারামারি, খুন ছিল নিত্য দিনের কাহিনি, চ্ছোটবেলা থেকেই দেখেছি আধিপাত্য বিস্তার নিয়ে লড়াই, দাঙ্গা, হাঙ্গামা আর অস্ত্রের মহড়া। আমাদের বাসার সামনেই ছিল কামাড়ের দোকান, সেখানেই তৈরী হত রামদা, সেনা, চাপাতি সহ নানান দেশীয় অস্ত্র, যার প্রভাবে প্রভাবিত হয়ে আমিও একবার একটা চাপাতি বানিয়ে ছিলাম, কোমরে নিয়ে ঘুরছিলামও কয়েকদিন। এখানে সবার স্বপ্ন থাকত নেতা হবার তাই আমিও নেতা হতে চেয়ে ছিলাম, কিন্ত সে প্রভাব আমার নৈতিকতার কাছে টিকেনি।

হাজরো প্রতিকুলতার মাঝে আমি উল্টো স্রোতে সাতড়াতে থাকি, সবাই যখন নেতা হয়, সন্ত্রসী হয় তখন আমার কবি হয়ে উঠা………?
আমাকে তিরস্কার করেনি এমন মানুষ খুজলে মনে হয় পাওয়া যাবেনা, পথের কুকুরটিও বাধ পরেনি।
তুবু এক মহা সংগ্রামে নিজেকে টিকিয়ে রেখেছি আজো পর্যন্ত, শিল্প, প্রতিভা এখানে মুল্যহীন, একবার পার্টি অফিসে জাতীয় নেতাদের ছবি পেইন্টিং করেছিলাম, তখনতো আর কথা নেই ” পোলাডা এইবার ঠায়ে গেছে, ছবি আইকা দোযখে যাইবে” কয়েকজন আপন মনে করে বলছিল, ছবি আকিসস না, পাপ, মহা পাপ। অথচ যে দেয়ালে ছবি আকছিলাম তার পাশেই মাঘের শীতে কাতরাতে দেখেছি বিবস্ত্র মানুষ, তা ঐ কথিত ধার্মিকদের নজরে পরেনি।
মজার বিষয় হচ্ছে এখানে সবাই রাজনীতি অনুকরন করে তাই মৃত্যুর সংবাদ যখন মাইকে প্রচার হয় তা ঐ রাজনৈতিক ভাষনের মতই শুনায়।
আমার লম্বা চুল, লাল কোর্তা, কবিতা,এখানে বেমানান, অপরিচিত, বেখাপ খাওয়া, লম্বা চুল থাকলে বলে, ভান্ডারীর মুরিদ।
দুঃখিত আমি চিরকাল বেখাপ খাওয়াই থেকে গেললাম, তোমাদের মত আর হয়ে ওঠা হলনা।
তবে বর্তমানে সবকিছু বদলেগেছে।
তবুও ভালবাসি প্রিয় বোয়ালিয়া, স্যালুট তোমায়, শিখিয়েছ অনেক কিছু

01726050506

এ জাতীয় আরো খবর
আমাদের ফেইসবুক পেইজ