শনিবার, ১৪ মে ২০২২, ০৬:০৭ পূর্বাহ্ন বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी
শিরোনাম :
ভাইয়ের হাতে ভাই খুনের ঘটনায় ঘাতক ভাই আটক নলছিটিতে কৃষকদের মাঝে বিণামূল্যে সার ও বীজ বিতরণ জবিতে চৈত্র সংক্রান্তি উদযাপিত মোরেলগঞ্জে ভ্রাম্যমাণ আদালতে ৬ ব্যবসায়ীকে অর্থদন্ড রাজশাহীতে দুস্থদের মাঝে সত্যের জয় সামাজিক সংগঠনের ইফতার বিতরণ রামপালে সংখ্যালঘু শীল বংশের বারোয়ারী পুকুর দখল চেষ্টায় পূজা পরিষদের ক্ষোভ প্রকাশ বাকেরগঞ্জে তিন টি ইউনিয়নে প্রকৃত ভূমিহীন ও গৃহহীনদের (ক শ্রেণির) মধ্যে যাচাই-বাছাই নলছিটিতে ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত নারী প্রতিনিধিদের দায়িত্ব-কর্তব্য বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালা রাজশাহীর বাঘায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে কলেজ ছাত্রের মৃত‍্যু বাগেরহাটে ধর্ষনের অভিযোগে অটোরিক্সা চালক আটক
নোটিশ:
প্রতিনিধি নিয়োগের জন্য যোগাযোগ করুন: ০১৭২৬ ০৫ ০৫ ০৮
বরিশালের ভাষায় বলে “ কুকুর লেজি” ফুল।। উপকারীতা জানলে অবাক হবেন।।
/ ১৫৭ বার
আপডেট সময় : শুক্রবার, ২৩ জুলাই, ২০২১, ৩:৩৮ অপরাহ্ন
আমাদের প্রকৃতির মাঝে ছড়িয়ে আছে অনেক উপকারী লতা, বৃক্ষ, কিন্ত আমাদের তা জানা নেই। আজকে সকলের পরিচিত একটি ফুলের নাম বলব যা হয়তো ছবি দেখে অনেকেই বুঝতে পেরেছেন। বরিশালের স্থানীয় ভাষায় বলে কুকুর লেজি ফুল, কারন এই গাছের ফুলহুলো দেকতে অনেকটা কুকুরের লেজের মতো। নটে শাক বা খৈরাকাঁটা বা কাঁটাখুইড়া বা খুড়াকাঁটা
তবে এর বৈজ্ঞানিক নাম হলো : Amaranthus spinosus
পরিবার : Amaranthaceae
প্রধান ব্যবহার :সবজি এবং ওষুধি
অন্যান্য ব্যবহার :কাঁটানটে একটি অনাবাদি উদ্ভিদ। এটা শাক এবং ওষুধি হিসাবে ব্যবহৃত হয়।
কাঁটা নটে বর্ষজীবী গুল্ম শ্রেণীর উদ্ভিদ। সাধারণ ভাবে এর কান্ড এক থেকে দেড় ফুট পর্যন্ত লম্বা হতে দেখা যায়। কান্ড শক্ত গাঁটযুক্ত এবং কাঁটায় ভরা থাকে। পাতার আকৃতি অনেকটা ছোট। পাতার আগার দিকটা ক্রমশঃ সরু। ফুলের রং ফিকে সবুজ, গুচ্ছবদ্ধঅবস্থায় থাকে।
ইহা বাংলাদেশের সর্বত্র দেখা যায়।
বংশবিস্তার: বীজ থেকে বংশবিস্তার হয়ে থাকে। বীজের রং কালো তবে রং উজ্জ্বল হয়ে থাকে। বর্ষার শেষে গাছে ফুল ফোটে, আশ্বিন মাসে ফল ধরে। পতিত জমি ও ক্ষেতের আইলে নিজে থেকেই জন্মে থাকে। এমনকি শাক-সবজির ক্ষেতেও দু’চারটে কাঁটা নটে দেখতে পাওয়া যায়। একে কাটিং এর মাধ্যমেও বংশ বিস্তার ঘটানো যায়।
কাঁটানটে শাকে পুস্টি উপাদান: কাঁটানটে উন্নত মানের পুস্টি রয়েছে। আহার উপযোগী কাঁটানটে শাকে রয়েছে-প্রোটিন, ভিটামিন-এ, ভিটামিন-বি৬, ভিটামিন-সি, ভিটামিন-কে, থায়ামিন, রিভাফ্লাভিন, নিয়াসিন, Pantothenic acid, খনিজ উপাদানের মধ্যে রয়েছে: ক্যালসিয়াম, আইরন, ম্যানেসিয়াম, ফসফরাস, পটাশিয়াম, সোডিয়াম, জিঙ্ক, কপার, ম্যাঙ্গানিজ, সেলেনিয়াম, আরও রয়েছে Histidine, Isoleucine, Leucine, Threonine লাইসিন, ট্রিপটোফেন ইত্যাদি।
কাঁটা নটে এর ওষুধি ব্যবহার:
রোগারোগ্য নটে শাক
অন্যান্য স্থানীয় নাম: কাঁটাখুইড়া, খুড়াকাঁটা
বৈজ্ঞানিক নাম : Amaranthus spinosus
পরিবার : Amaranthaceae
প্রধান ব্যবহার :সবজি এবং ওষুধি
অন্যান্য ব্যবহার :কাঁটানটে একটি অনাবাদি উদ্ভিদ। এটা শাক এবং ওষুধি হিশেবে ব্যবহৃত হয়।
আয়ুর্বেদ মতে,
* যারা মা হতে চলেছেন, যারা ছোট শিশুর মা, যারা সদ্য মা হয়েছেন, সব মায়েরাই নটে শাক খেলে উপকার পাবেন।
* প্রসাবের অসুখ, যাতে শরীর ফুলে উঠে ও ব্যথা করে সে যন্ত্রনায় নটে শাক খেলে উপশম হয়।
* চর্ম রোগ, চোখের অসুখ, চোখ জ্বালা করা, লাল হওয়া। নটে শাক প্রশান্তি দেয়।
* পাতার রস বের করে, ভাজি, ঘন্ট ইত্যাদি খেলে পেটের অসুখে উপকার পাওয়া যায়।
* পাতার রস রক্তপিত্ত, নাক থেকে রক্ত পড়া বন্ধ করে।শরীর ঠান্ডা রাখে। এতে লবন ও আশ বা ছোবড়া আছে বলে কোষ্ঠকাঠিন্য সারায়।
হাত পা জ্বালা কমে
* শেকড় ভাতের মাড় মিশিয়ে খেলে ভ্রুন সুরক্ষায় থাকে।
* আগুনে পোড়া ঘা,ক্ষত, ব্রণে শাকের রস লাগালে দ্রুত উপসম হয়।
প্রচুর রসুন দিয়ে এ শাক মুখ রোচক।
এছাড়া,
◙ পোড়া গায়ে: ১০-১৫ গ্রাম কাঁটা নটে গাছের টাটকা মূল এবং ২০ গ্রাম পাতা কোনো মাটি বা স্টিলের পাত্রে রেখে, তাতে ১০০ মিলিলিটার পানি দিয়ে সেদ্ধ করতে হবে। পানি ঠান্ডা হলে পরিস্কার পাতলা কাপড়ে ছেঁকে পোড়া ঘায়ের ওপর তুলা অথবা পাতলা কাপড়ের টুকরা চার-পাঁচ ভাজ করে বসিয়ে সেটা মূল ও পাতা সেদ্ধ পানিতে ভিজিয়ে দিতে হবে। এভাবে কয়েক দিন চালিয়ে যেতে হবে তাহলে ভালো হয়ে যাবে।
◙ খোস-পাঁচড়া: কাঁটা নটে গাছের পাতা, কান্ড, মূল ভালোভাবে শুকিয়ে তাকে আগুনে পুড়িয়ে সে ছাই নারকেল তেলের সঙ্গে মিশিয়ে খোস-পাঁচড়ায় প্রয়োগ করলে এ দু’টো চর্ম রোগ ভালো হয়ে যাবে।
◙ ফোঁড়া ও বাগী ফাটাতে: কাঁটা নটে গাছের কচি ডাল ও পাতা বেটে ফোঁড়া বা বাগীতে প্রলেপ দিলে মাত্র দু’তিন দিনের মধ্যেই ফোঁড়া ফেটে যাবে। দিনে একবার প্রলেপ দিলেই যথেষ্ঠ।
◙ গনোরিয়া রোগে: কাঁটা নটের শিকড় টাটকা তুলে এনে তা সামান্য পানি দিয়ে শিলে বেটে তার সম্পূর্ণ রস আধা কাপ ঠান্ডা পানিতে মিশিয়ে দেড় চা-চামচ চিনি বা মিছরির গুঁড়া কিংবা সম পরিমাণ মধু মিশিয়ে খেলে অব্যর্থ সুফল পাওয়া যায়।
◙ মাথা ধরায়: আট গ্রাম কাঁটা নটের মূল এবং এক গ্রাম গোলমরিচ, এ দুটোকে সামান্য পানি দিয়ে বেটে কপালে প্রলেপ দিলে মাধা ধরা সেরে যাবে।
◙ পেটে-যন্ত্রণায়: ৩/৪ গ্রাম কাঁটা নটের মূল এবং এক গ্রাম রসাঞ্জন। এ দু’টিকে রোজ একবার করে খেলে পেটে যন্ত্রণার রোগী অবশ্যই উপকার পাবেন।

01726050506

এ জাতীয় আরো খবর
আমাদের ফেইসবুক পেইজ