বুধবার, ২৭ অক্টোবর ২০২১, ০৩:২৮ অপরাহ্ন বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी
শিরোনাম :
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের ১৫তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন। বাগেরহাটের রামপালে রাজনগর ইউপি’র নির্বাচনী পথসভা অনুষ্ঠিত বেলাবতে প্রকল্প অবহিতকরণ সভার আয়োজন নড়াইলে ফল ব্যবসায়ী  কুপিয়ে হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা গৃহপালিত একটি মুরগী হঠাৎ করেই মোরগে রুপান্তরিত হয়ে গেছে বগুড়া ধুনটে হ্যান্ডমাইক নিয়ে রাস্তায় নেমে এলেন মেয়র নিজেই অবৈধ বালু কাটায়  কুয়াকাটা সৈকত।। নিষেধাজ্ঞা শেষে মাছ শিকারে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে উপকূলের জেলেরা রামপালের ফয়লাহাট থেকে র‌্যাবের হাতে কথিত জ্বীনের বাদশা প্রতারক চক্রের সদস্য আটক দক্ষিণের পায়রা সেতু’ উদ্বোধনের মধ্যে দিয়ে সৃষ্টি হলো নতুন ইতিহাস। বিলুপ্ত হলো ফেরী পাড়াপাড়
নোটিশ:
প্রতিনিধি নিয়োগের জন্য যোগাযোগ করুন: ০১৭২৬ ০৫ ০৫ ০৮
মাদারীপুরে সক্রিয় মানবপাচার সিন্ডিকেট ॥ প্রলোভনে পড়ে যুবকরা ফিরছে লাশ হয়ে
/ ১৩৭ বার
আপডেট সময় : বৃহস্পতিবার, ১৫ জুলাই, ২০২১, ১২:০৮ অপরাহ্ন

 

মাদারীপুর প্রতিনিধিঃ
মাদারীপুরে দালালচক্রের সিন্ডিকেট অবৈধভাবে সমুদ্রপথে ইতালী, সিঙ্গাপুর বা মালায়েশিয়া পাঠানোর কথা বলে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। উন্নত জীবনের আশায় দালালদের ফাঁদে পা দিয়ে বাংলাদেশ থেকে লিবিয়া, বেনগাজী টর্চার সেল। সেখান থেকে ইউরোপের স্বপ্নের দেশ ইতালী যাওয়া পথে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে অনেকে ফিরছেন লাশ হয়ে। অনেকে হারিয়ে যাচ্ছে ভূমধ্যসাগরে। তবুও থামছে না অবৈধপথে বিদেশ যাত্রা। প্রায়ই তিউনিশিয়ার উপকূল ও ভূমধ্যসাগর থেকে বাংলাদেশীসহ বহু অভিবাসন প্রত্যাশী কিশোর-যুবককে উদ্ধার করছে ওই দেশের কোস্টগার্ড। এদের বেশিরভাগই মাদারীপুর ও শরীয়তপুর জেলার দরিদ্র পরিবারের সন্তান। মানবপাচারকারীরা বারবার রুট বদল করায় এবং পূর্ণাঙ্গ তালিকা না থাকায় ব্যবস্থা নিতে পারছে না প্রশাসন। এদের কেউ কেউ লিবিয়া থেকে এ দেশের দালালদের মাধ্যমে লিয়াজোঁ করে অভিবাসন প্রত্যাশী কিশোর-যুবকদের সংগ্রহ করে থাকে। এই দালাল চক্রের দলে রয়েছে অনেক নারী সদস্য। তবে ভূক্তভোগী পরিবাগুলোর কেউ এ ব্যাপারে কথা বলতে নারাজ। এ পর্যন্ত র‌্যাব ও পুলিশ বেশ কিছু নারী-পুরুষ দালালকে গ্রেফতার করে আদালতে প্রেরণ করেছে বলে ভূক্তভোগী পরিবারগুলোর দাবী। তবুও থেমে নেই অবৈধপথে মানবপাচার চক্র। এই সিন্ডিকেটের বড় একটা অংশ থেকে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে।
খোঁজ খবর নিয়ে এবং ভূক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, অবৈধভাবে সমুদ্রপথে বিদেশ যাত্রাকালে গত ৫ বছরে নৌকাডুবিতে মারা গেছে মাদারীপুরের ৪ উপজেলার প্রায় অর্ধশত কিশোর-যুবক। এখনো নিখোঁজ কয়েকশ’। তবুও থামছে না অবৈধপথে বিদেশযাত্রা। গ্রামের সহজ-সরল কিশোর-যুবকদের উন্নত জীবনের স্বপ্ন আর রাতারাতি ধনি হওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বিদেশে পাঠাচ্ছে মানবপাচার চক্রের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট। দীর্ঘদিন ধরে এই চক্রটি হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। এইসব কিশোর-যুবকদের বাবা-মা আত্মীয়-স্বজনও লোভে পড়ে তাদের সন্তানদের ছেড়ে দিচ্ছেন মানবপাচারকারী দালাল চক্রের হাতে।
স্বজনরা জানায়, প্রথমে লোভ দেখিয়ে লিবিয়া পাঠায় দালালচক্র। পরে নৌকা বা ছোট ট্রলারে করে ভু-মধ্যসাগর পাড়ি দিতে যুবকদের বাধ্য করে তারা। এতে প্রাণ হারাতে হয় অনেকেরই। এছাড়া দালালদের চাহিদা মতো টাকা দিতে না পারলে লিবিয়ার বেনগাজীসহ বিভিন্ন টর্চার সেলে শুরু হয় শারীরিক নির্যাতন। তুলে দেয় লিবিয়ান মাফিয়াদের হাতে। মাফিয়ারা নির্যাতনের ভিডিও পাঠিয়ে এবং হত্যার ভয়ভীতি দেখিয়ে এদেশে দালালদের মাধ্যমে এসব পরিবারের কাছ থেকে আদায় করছে লাখ-লাখ টাকা। এমন অনেক পরিবার আছে; যারা নানা কারণে প্রশাসন ও সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ দিচ্ছে না। এ সব তথ্য ফাঁস করে দিলে মাফিয়ারা তাদের সন্তানদের মেরে ফেলবে-এমন আশঙ্কায়।
অনুসন্ধান করে মাদারীপুরে একটি দালালচক্রের কয়েকজন সক্রিয় সদস্যের নাম ঠিকানা পাওয়া গেছে। তারা হলো, মাদারীপুর সদর উপজেলার বড়াইলবাড়ির জামাল খাঁ ও রুবেল খাঁ, শ্রীনাথদি বাজিতপুর গ্রামের জাহাঙ্গীর হাওলাদার, কুমড়াখালীর এমদাদ বেপারী, ধুরাইল ইউনিয়নের চাছার গ্রামের ইউসুফ খান জাহিদ, পেয়ারপুর ইউনিয়নের নয়াচর গ্রামের মহসিন মাতুব্বর ও মিজান মাতুব্বর, গাছবাড়িয়া গ্রামের নাসির শিকদার, রাজৈর উপজেলার বদরপাশা গ্রামের জুলহাস তালুকদার, হোসেনপুর এলাকার জাকির হোসেন, টেকেরহাটের লিয়াকত মেম্বার, কদমবাড়ির রবিউল ওরফে রবি, শাখারপাড় গ্রামের কামরুল মোল্লা, এমরান মোল্লা, আমগ্রাম ইউনিয়নের কৃষ্ণারমোড় এলাকার শামীম ফকির, স¤্রাট ফকির, শিবচর উপজেলার দত্তপাড়া ইউনিয়নের শহিদুল মাতুব্বর ও সিরাজ মাতুব্বর। এই চক্রের সাথে রয়েছে বেশকিছু নারী দালাল। তারা কমিশনে গ্রামে গ্রামে ঘুরে কিশোর-যুবকদের সংগ্রহ করে। গত বছর ৩০ জুন পর্যন্ত র‌্যাব ও পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছে সুমি বেগম, দিনা বেগম, নার্গিস বেগম, জুলহাস, হানিফ, সেন্টু শিকদার, নাসিরসহ অন্তত ১৫জন। তবুও থেমে নেই অবৈধপথে মানবপাচার।
রাজৈর উপজেলার বদরপাশা ইউনিয়নের শাখারপাড় এলাকার পারভীন বেগম অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার ছেলে সুমন মোল্লাকে হাসানকান্দি এলাকায় দালাল হানিফের মাধ্যমে ইতালী পাঠানোর কথা হয়। সেই মোতাবেক সাড়ে ৭ লাখ টাকা হানিফের হাতে তুলে দেয়া হয়। পরে লিবিয়া গিয়ে আমার ছেলেকে কয়েক দফা বিক্রি করে দেয় দালালচক্র। বর্তমানে লিবিয়ান পুলিশের হাতে আমার ছেলে সুমনসহ আটকা আছে অন্তত ৪৫ জন। এই দালাল হানিফ শ্রীনদীতে তিন তলা বাড়ি করেছে। অবৈধভাবে কোটি কোটি টাকা কামাচ্ছে দালালরা।’
একই এলাকার কেরামত আলী ফকির বলেন, ‘দালাল কামরুল মোল্লা আমার ছেলেকে লোভ দেখিয়ে ইতালী পাঠানোর কথা বলে। মাঝপথে লিবিয়া গিয়ে নিখোঁজ তিন মাস ধরে। এখন আমার ছেলের কোন খোঁজ পাচ্ছিনা। এ ব্যাপারে রাজৈর থানায় একটি মানবপাচার আইনে মামলা করেছি।’
মাদারীপুরে সচেতন নাগরিক কমিটির সাবেক সভাপতি শাহানা নাসরিন রুবি বলেন, ‘প্রশাসন তৎপর হলেই কমবে অবৈধপথে বিদেশযাত্রা। প্রশাসনের নাকের ডগায় বসে এই দালালচক্র দীর্ঘদিন ধরে অবৈধপথে মানবপাচার করলেও তেমন কোন কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছেনা। প্রশাসনের উচিৎ দালালচক্রকে খুঁজে বের করে এদের বিচারের আওতায় আনা।’
মাদারীপুরের পুলিশ সুপার গোলাম মোস্তফা রাসেল সাংবাদিকদের বলেন, ‘মূলত ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলো সহজে অভিযোগ দিতে চায়না। যদি দালালচক্রের কোন অভিযোগ পাওয়া যায়, তাহলে দ্রুত আইনগত পদক্ষেপ নেয়া হবে।’
মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক ড. রহিমা খাতুন সাংবাদিকদের জানান, যদি দালালচক্রের তালিকা পাওয়া যায়, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ জাতীয় আরো খবর
আমাদের ফেইসবুক পেইজ